আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর


ঈদ মানেই আনন্দ, নতুন জামা আর আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের মিলনমেলা। হৈ-হুল্লো, ঘুরে বেড়ানো, খাওয়া-দাওয়া আর আড্ডায় মেতে ওঠা। এ উৎসবে মুসলমানরা ঈদগাহে কোলাকুলি করে থাকেন। এছাড়া সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার বন্ধনে সবাইকে নতুন করে আবদ্ধ করাও ঈদের অন্যতম অর্থ। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে এবারের ঈদ আনন্দের সবকিছুতেই ভাটা পড়েছে।

অদৃশ্য এক ভাইরাসে পুরো বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও থমকে গেছে স্বাভাবিক জীবনযাপন। এক কথায় বলতে গেলে এবারও ঈদ উৎসব আনন্দ-খুশির ডালায় নয়, এসেছে শঙ্কা-অনিশ্চয়তার বার্তা নিয়ে।

আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর। ৩০ দিন সিয়াম সাধনার পর মুসলিম সম্প্রদায় আজ ঈদ উদযাপন করছেন। গত বুধবার দেশের কোথাও পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে আজ শুক্রবার উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর।

ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণে বুধবার সন্ধ্যায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার পর ধর্ম প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের কোথাও পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে শুক্রবার উদযাপিত হবে ঈদুল ফিতর। তিনি দেশবাসীকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের আহ্বান জানান।

বায়তুল মোকাররমে বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে বাদ মাগরিব এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা শায়লা শারমীন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ২৯ রমজানে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে পরদিন ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়। কিন্তু এদিন চাঁদ দেখা না গেলে রোজা ৩০টি পালন করতে হয় এবং ৩০ রোজার পরদিন ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়। এজন্য আজ আর চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকের প্রয়োজন হবে না বলে তিনি জানান।

অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কার মধ্যেই আসছে এবারের ঈদ। মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ঈদকে ঘিরে যে আনন্দ-উচ্ছাস থাকার কথা তা এবারো গত বছরের ন্যায় ম্লান করে দিয়েছে মহামারি করোনাভাইরাস।

করোনা মোকাবেলায় ও সংক্রমণ বিস্তার রোধে সরকারের নির্দেশনায় এবার খোলা মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। ঈদ জামাত হবে মসজিদের ভেতরে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে।

রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা ভাষণ দেবেন।

এবার হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাত হচ্ছে না। হচ্ছে না শত বছরের ঐতিহ্য ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানের ঈদ জামাতও। তবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঈদের পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

ইসলামিক ফাউেন্ডশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারো বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে পাঁটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাতটায়। এ জামাতের ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান। মুকাব্বির থাকবেন মুয়াজ্জিন হাফেজ ক্কারী কাজী মাসুদুর রহমান।

দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায়। এ জামাতের ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মুহিববুল্লাহিল বাকী নদভী। মুকাব্বির থাকবেন মুয়াজ্জিন হাফেজ ক্বারী হাবিবুর রহমান মেশকাত।

তৃতীয় জামাত সকাল ৯টা অনুষ্ঠিত হবে। এই জামাতের ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা এহসানুল হক। মুকাব্বির থাকবেন মুয়াজ্জিন মাওলানা ইসহাক।

সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে চতুর্থ জামাত। এ জামাতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মহিউদ্দিন কাসেম। মুকাব্বির থাকবেন মুয়াজ্জিন মো: আতাউর রহমান।

পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত সকাল পৌনে ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। এ জামাতের ইমামতি করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুহাদ্দিস হাফেজ মাওলানা ওয়ালিয়ুর রহমান খান। মুকাব্বির থাকবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খাদেম হাফেজ মো: শহীদুল্লাহ।

এই পাঁচটি জামাতে কোনো ইমাম অনুপস্থিত থাকলে বিকল্প ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ।

বতর্মান করোনা পরিস্থিতিতে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে ২৬ এপ্রিল জারীকৃত বিজ্ঞপ্তি অনুসরন করে যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে মসজিদের ইমাম-খতিব, মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটি, ধর্মপ্রাণ মুসল্লী ও সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, এবারের ঈদ জামাত আয়োজনে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিকতা নেই।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) জনসংযোগ কর্মকর্তা মো: আবু নাছের জানান, এবারের ঈদে ডিএসসিসি’র পক্ষ থেকে খোলা মাঠে ঈদ জামাত আয়োজনের কোনো উদ্যোগ থাকছে না। তবে সরকারের নির্দেশনা মেনে মসজিদগুলোতে ঈদ জামাত আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) জনসংযোগ কর্মকর্তা আবুল বাশার মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ডিএনসিসি আওতাধীন এলাকায় খোলা মাঠে কোনো ধরনের ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে না। মেয়র আতিকুল ইসলামও নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

এবার খোলা স্থানের পরিবর্তে কাছের মসজিদে অনুষ্ঠেয় ঈদ জামাতে শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে নির্দেশনায় বলা হয়েছে।

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের বাসায় যাতায়াত না করার পাশাপাশি বিনোদন কেন্দ্রে ঘোরাঘুরি না করে নিজ ঘরে ঈদ উদযাপন করতেও বলা হয়েছে।

ঈদের শিক্ষা ও আমল

ঈদ আরবী শব্দ। এর অর্থ- দু’টি। একটি আনন্দ, অপরটি ফিরে আসা। এ দিনটি আনন্দ ও খুশির দিন বলে একে ঈদ বলা হয়। আবার এ দিনটি বার বার ফিরে আসে বলে এক বলা হয় ঈদ। আল্লাহ তা’য়ালা প্রতিবছর এদিনে স্বীয় বান্দাদেরকে তার নিয়ামত ও অনুগ্রহ দ্বারা ধন্য করে থাকেন। এক মাস পানাহার নিষিদ্ধ থাকার পর আবার পানাহারে নির্দেশ প্রদান করা হয়। এতে রোজাদারের প্রাণে আনন্দের ফল্গুধারা সঞ্চারিত হয়।

ঈদের সূচনা কিভাবে হয় : হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সা: যখন মক্কা থেকে হিজরত করে মদীনায় গমন করেন তখন তিনি মদীনাবাসীদের মধ্যে বিশেষ দুটি দিবস প্রত্যক্ষ করেন। একটি হলো নওরুয, অপরটি খোশরুয। এ দিবস দুটিতে তারা খেলাধুলা ও আনন্দ-ফূর্তি করে। মহানবী সা: তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন এ দিবস দুটির তাৎপর্য কি? মদীনাবাসীরা প্রত্যুত্তরে বলে আমরা জাহেলি যুগ থেকে এ দিবস দুটিতে খেলাধূলা করে আসছি। তখন রাসুলুল্লাহ সা: বলেন- আল্লাহ তা’য়ালা এ দু’দিনের পরিবর্তে এর চেয়েও উত্তম দু’টি দিবস তোমাদেরকে দান করেছেন। আর সেই দিবস দুটি হলো- ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতর (নাসাঈ হাদীস নং- ১৫৫৬, আবু দাউদ হাদীস নং- ১১৩৪)।



ঈদের দিনে মহানবী সা:-এর আমল : মহানবী সা: প্রিয়প্রভুর সন্তুষ্টি লাভের প্রত্যাশায় নামাজের মাধ্যমে আনুগত্যের মস্তক অবনত করে ঈদের দিনের সূচনা করতেন। (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)। ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হবার পূর্বে গোসল করে এবং সুগন্ধি ব্যবহার করে সাধ্যানুযায়ী পরিচ্ছন্ন, পবিত্র ও সুন্দর জামা-কাপড় পরিধান করতেন। ঈদুল ফিতরের দিন খেজুর খেতেন। ঈদুল আযহায় কিছুই খেতেন না। ঈদুল ফিতরের নামাজ বিলম্বে এবং ঈদুল আযহার নামাজ সকাল সকাল পড়তেন। নামাজ শেষে তিনি দুটি খুতবা দিতেন। নামাজীরা তাদের সারিতে বসে থাকতেন। খুতবার এক অংশে থাকত, অমূল্য পথ নির্দেশনা দান। আর অপর অংশে থাকতো ইসলামের উন্নতি, মঙ্গল ও বিজয় কামনা এবং ইসলামের শত্রুদের জন্য বদ দোয়া (বুখারী ও মুসলিম)। তিনি এক রাস্তা দিয়ে ঈদগাহে যেতেন এবং অন্য রাস্তা দিয়ে আসতেন। যাতে বেশি সংখ্যক মানুষের সাথে দেখা-সাক্ষাত ও তাদের অবস্থা জানার সুযোগ হয় (বুখারী)।

পারস্পরিক দেখা-স্বাক্ষাত, ভালোবাসা ও ভাব বিনিময়ের মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি বন্ধন ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করতে প্রিয় সাহাবীদের সাথে বিশ্ব নবী সা: ঈদ উৎযাপন করতেন এবং এ দোয়া করতেন- আল্লাহুম্মা তাকাব্বালহু মিন্না ওয়ামিনকা। হে আল্লাহ, আমাদের এবং আপনার তরফ থেকে ঈদকে কবুল করুন। মহানবী সা: মানুষের কল্যাণ ও সমবেদনার মাধ্যমে ঈদের খুশি সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার নিমিত্তে শহরের অলিতে গলিতে লোক পাঠিয়ে এ ঘোষনা করে দিতেন যে, সাবধান! সদকায়ে ফিতর প্রত্যেক মুসলমান নারী-পুরুষ, আযাদ ও ক্রীতদাস, ছোট-বড় সকলের উপর ওয়াজিব (তিরমিযী)।



ঈদের শিক্ষা : ঈদের শিক্ষা ব্যাপক ও সার্বজনীন। ঈদ আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমিনের জন্য একটি নিয়ামত। এ দিবসে রোজা রাখা হারাম করা হয়েছে। এ দিনের খুশিকে ব্যাপক ও সার্বিক করার নিমিত্তে ফিৎরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঈদ ধনী-গরিব, ছোট-বড়, সুন্দর-কালো, রাজা-প্রজা প্রমুখের ব্যবধানকে বিদূরিত করে দেয়। ঈদের নামাজ ইসলামী ঐক্যের এক মহামিলন মেলা। খোলা মাঠে সকল মু’মিনের উপস্থিতি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। সকলে এক সাথে একত্রিত হয়ে পারস্পরিক কুশল বিনিময় ও ভাবের আদান প্রদান করে। এতে ভালবাসা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়। একে অন্যের দুঃখে দুঃখী এবং অন্যের সুখে সুখী হওয়ার এক মুখ্য সুযোগ এ ঈদ। সাহাবায়ে কেরাম ‘ঈদ মুবারক’, ‘ঈদুন সাইদ’ বলে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন। আরো বলতেন- তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়ামিনকা। আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের এবং আপনার (ভাল কাজ) কবুল করুন। (ফতহুলবারী)। ঈদের সময় আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া, তাদের খোঁজ-খবর নেয়া, তাদেরকে দাওয়াত দেয়া উত্তম ইবাদত। গরীব-দুঃখীদের খোঁজ খবর নেয়া, সাহায্য-সহযোগিতা করা বিশ্ব নবীর সুন্নাত। মহানবী সা: একদা ঈদের দিনে বাবা-মাহারা শিশুকে ঘরে নিয়ে আসেন এবং নিজেকে তার পিতা ও আয়েশা (রা) কে তার মাতা বলে তার ব্যথা ঘুচানোর উদ্যোগ নেন।

ঈদের দিনে করণীয় আমল : ঈদের দিনে নিম্ন বর্ণিত কাজসমূহ করা সুন্নত। ১. গোসল করা, ২. মিসওয়াক করা, ৩. সুগন্ধি ব্যবহার করা, ৪. নতুন জামা (থাকলে) অথবা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন জামা পরিধান করা, ৫. ঈদুল ফিতরের দিন কিছু (বিশেষত মিষ্টি দ্রব্য) খেয়ে এবং ঈদুল আযহার দিন খালি পেটে ঈদের সালাত আদায় করা, ৬. ঈদুল ফিতরের সালাতের পূর্বে সাদকায়ে ফিতর আদায় করা, ৭. ঈদগাহে এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া এবং অন্য রাস্তা দিয়ে আসা, ৮. ঈদগাহে আসা-যাওয়ার পথে ঈদুল ফিতরে আস্তে আস্তে এবং ঈদুল আযহায় জোরে জোরে তাকবীরে তাশরীক ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ্’ পড়া, ৯. প্রত্যুষে ঘুম থেকে উঠা, ১০. সকাল সকাল ঈদগাহে যাওয়া।



সাদকায়ে ফিতর প্রদান : ঈদুল ফিতরে ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে সামর্থবান ব্যক্তির উপর সাদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। এই সাদকা দুঃস্থগণকেও ঈদ উৎসবে যোগদানের সুযোগ করে দেয় এবং সিয়ামের ত্রুটি-বিচ্যুতি হতে পবিত্র করে। ছোট-বড়, নারী-পুরুষ প্রত্যেকের পক্ষ হতে এ ফিৎরা আদায় করা ওয়াজিব। পনির, খেজুরপ্রভৃতি এক সা’ পরিমাণ বা উহার সমমূল্য। আর গম অর্ধ সা’। এক সা পরিমাণ হল- ৩ কেজি ১৮৩ গ্রাম। আর অর্ধ সা হলো- ১ কেজি ৫৯১.৫ গ্রাম।

ঈদের দিনে বর্জণীয় আমল : ঈদের দিনে এমন কিছু কাজ করা উচিত নয় যা করতে রাসূল সা. নিষেধ করেছেন। তিনি ইরশাদ করেছেন- যে ব্যক্তি অন্য জাতির সাথে সাদৃশ্য রাখে সে তাদের দলভূক্ত বলে গণ্য হবে। সুতরাং অমুসলিমদের আচরণ, তাদের আদর্শ ও সংস্কৃতি মুসলমান গ্রহণ করবে না। ঈদের দিনে অশ্লীল কাজ কর্ম, অশালীন পোষাক পরিধান করা, নারী পুরুষের, পুরুষ নারীর বেশ ধারণ করা, বাদ্যযন্ত্র বাজানো, পটকা ফুটানো, যুবতীরা বেপর্দায় বেড়াতে যাওয়া ইত্যাদি কর্মসম্পূর্ণরূপে বর্জণীয়।

ঈদের নামায : উভয় ঈদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো সমষ্টিগতভাবে সালাত আদায় করা। যাকে বাৎসরিক সম্মেলন বলা যায়। এ নামাজ দু’রাকাত বিশিষ্ট, যার প্রতি রাকায়াতে হাত উত্তোলনসহ কিছু অতিরিক্ত তাকবির বলা হয়। হানাফী মাযহাবে প্রতি রাকায়াতে তিনটি করে মোট ছয়টি অতিরিক্ত তাকবির বলতে হয়। তা ওয়াজিব। প্রথম রাকায়াতে ছানা পড়ে এবং তাউস ও তাসমিয়ার পূর্বে এবং দ্বিতীয় রাকায়াতে ক্বিরাতের পরে (রুকুর পূর্বে) তাকবীর সমূহ আদায় করতে হয়। এই নামাযের জন্য আযান ও ইকামত নেই। ঈদের নামাজ সূর্যোদয়ের পর সকাল সকাল আদায় করা সুন্নত।

কি দরকার ছিল তাঁর অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার?

কি দরকার ছিল তাঁর অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার?

কি প্রয়োজন ছিল জীবনের মায়া ত্যাগ করে সত্যের পক্ষে গর্জন দেয়ার?
অনেক শায়খুল হাদীস তো সুখের জীবন যাপন করছেন!
তাহলে তিনি এত কষ্টের জীবনের পথে জেনে শোনে কেন পা বাড়ালেন?
উত্তর টা আপনারাই দিন!

আল্লাহ তায়ালা মজলুম জননেতা আল্লামা মামুনুল হক হাফিঃ কে হেফাজত করুন!

আমিন

আল-আকসা মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় আব্দুল্লাহ আল রাহি তীব্র নিন্দা

ফিলিস্তিনের আল-আকসা মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন আব্দুল্লাহ আল রাহি তিনি সম্প্রতি ইসরায়েলি হামলায় হতাহতদের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানিয়ে

আল-আকসা মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় আব্দুল্লাহ আল রাহি তীব্র নিন্দা

ফিলিস্তিনের আল-আকসা মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন আব্দুল্লাহ আল রাহি তিনি সম্প্রতি ইসরায়েলি হামলায় হতাহতদের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানিয়ে।..

আল-আকসা মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় আব্দুল্লাহ আল রাহি তীব্র নিন্দা

ফিলিস্তিনের আল-আকসা মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন আব্দুল্লাহ আল রাহি তিনি সম্প্রতি ইসরায়েলি হামলায় হতাহতদের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানিয়ে।

হামাগুড়ি দিয়ে হলেও আমরা পৌঁছুব ইনশাআল্লাহ

॥ হামাগুড়ি দিয়ে হলেও আমরা পৌঁছুব ইনশাআল্লাহ ॥
মসজিদুল আকসা বা বাইতুল মুকাদ্দাস ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদ। যেটি জেরুসালেমের পুরনো শহরে অবস্থিত। এটা মুসলমানদের কাছে ‘বায়তুল মোকাদ্দাস বা ‘আল আকসা’ মসজিদ নামে পরিচিত। ইসলামি স্থাপনার প্রাচীন এই নমুনাটি মুসলমান, খ্রিস্টান ও ইহুদি তিন ধর্মাবলম্বীদের কাছে সমানভাবে পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ। ঈসা (আ.) এবং মরিয়ম (আ.) এর সাথে প্রাচীনতম ইবাদত গৃহ বায়তুল মুকাদ্দাস বা মসজিদে আকসার সম্পর্ক সুনিবিড়ভাবে জড়িত।
মুসলিমদের কাছে আল আকসা মসজিদ নামে পরিচিত স্থাপনাটি ইহুদিদের কাছে ‘টেম্পল মাউন্ট’ নামে পরিচিত। আল আকসা হচ্ছে- ইসলামের প্রথম কেবলা এবং মক্কা ও মদিনার পর তৃতীয় পবিত্র স্থান। মসজিদুল আকসায় এক রাকাত নামাজ আদায় করলে ২৫০ অন্য বর্ণনায় ৫০০ রাকাতের সাওয়াব পাওয়া যায়। শেষ জামানার ঘটনাবলির কারণেও এ এলাকাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলেই দাজ্জাল ও ঈসা (আ.) এর আগমন ঘটবে।
বিশ্বনবী (সা.) মিরাজের রাতে মসজিদুল হারাম থেকে আল-আকসা মসজিদে এসেছিলেন এবং এখান থেকেই তিনি ঊর্ধ্বাকাশের দিকে যাত্রা করেন। বিশ্বনবী (সা.) মিরাজ গমনের প্রাক্কালে এই মসজিদে সব নবি–রাসুলের ইমামতি করে নামাজ আদায় করেন। এতে তিনি ‘ইমামুল আম্বিয়া’ অর্থাৎ সকল নবির ইমাম ও ‘সায়্যিদুল মুরসালিন’ তথা সব রাসুলের নেতা হিসেবে স্বীকৃত হন। এ এলাকাটি অসংখ্য নবি–রাসুলের স্মৃতিবিজড়িত, এর আশপাশে অনেক নবি–রাসুলের কবর রয়েছে। প্রাচীনকাল থেকেই এই অঞ্চলটি ওহি অবতরণের স্থল, ইসলামের কেন্দ্র, ইসলামি সংস্কৃতির চারণভূমি ও ইসলাম প্রচারের লালনক্ষেত্র হিসেবে প্রসিদ্ধ। আল আকসা মসজিদের গুরুত্বের আরও একটি বড় কারণ হলো, রাসুল (সা.) নবুয়ত প্রাপ্তির পর থেকে টানা ১৪ বছর পর্যন্ত আকসা মসজিদই ছিল মুসলিমদের কিবলা। মক্কায় যখন রাসুল (সা.) নামাজ পড়তেন তখন বায়তুল মোকাদ্দাস অভিমুখী হয়ে দাঁড়ালেও ক্বাবাকে তিনি সামনে রাখতেন। হিজরতের ১৬/১৭ মাস পর মহান আল্লাহর নির্দেশে মুসলমানদের কেবলা বায়তুল মোকাদ্দাস থেকে মক্কার দিকে স্থায়ীভাবে পরিবর্তিত হয়।
বিশুদ্ধ মতানুসারে সর্ব প্রথম আদম (আ.) মসজিদুল আকসার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। ইমাম কুরতুবির মতে এই মসজিদটি প্রথম নির্মাণ করেন আদম (আ.) এর কোন এক সন্তান। ইবনে হাজার আল-আস্কালানি নূহ (আ.) এর সন্তান সাম এর কথাও উল্লেখ করেছেন। পরবর্তীতে এই মসজিদটি পুনঃনির্মাণ করেছিলেন ইব্রাহিম (আ.) এর সন্তান নবি ইসহাক (আ.) ও পরিপূর্ণ করেছিলেন নবি সুলাইমান (আ.)। বনি ইসরাইলের ধার্মিক লোকজন এই বায়তুল মুকাদ্দাস বা মসজিদুল আকসায় আল্লাহ তা’আলার উপাসনায় মগ্ন থাকতো।
ইতিহাসের সুদীর্ঘ পথ পরিক্রমা শেষে খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাবের আমলে জেরুসালেম বিজয় হলে বর্তমান মসজিদের স্থানে তিনি একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। পরবর্তীতে উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিকের যুগে মসজিদটি পুনর্নির্মাণ ও সম্প্রসারিত হয়। ৭৪৬ খ্রিস্টাব্দে ভূমিকম্পে মসজিদটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হলে আব্বাসীয় খলিফা আল মনসুর এটি পুনর্নির্মাণ করেন। পরে খলিফা আল-মাহদি এর পূনর্নির্মাণ করেন। ১০৩৩ খৃস্টাব্দে আরেকটি ভূমিকম্পে মসজিদটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ফাতিমি খলিফা আলি আজ-জাহির পুনরায় মসজিদটি নির্মাণ করেন, যা অদ্যবধি টিকে আছে।
১০৯৯ খ্রিস্টাব্দে ক্রুসেডাররা জেরুজালেম দখল করার পর তারা মসজিদটিকে একটি প্রাসাদ এবং মসজিদ প্রাঙ্গণে অবস্থিত কুব্বাতুস সাখরাকে গির্জা হিসেবে ব্যবহার করত। মুসলিম বীর সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবি জেরুসালেম পুনরায় জয় করার পর মসজিদ হিসেবে এর ব্যবহার পুনরায় শুরু হয়। আইয়ুবি, মামলুক, উসমানি, সুপ্রিম মুসলিম কাউন্সিল ও জর্ডানের তত্ত্বাবধানে এর নানাবিধ সংস্কার করা হয়। বর্তমানে পুরনো শহরটি ইসরায়েলিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইসলামের তৃতীয় বৃহত্তম ঐতিহাসিক এ মসজিদটির ওপর চলছে যায়োনিস্ট ইহুদিদের আগ্রাসন। অবৈধভাবে গড়ে ওঠা রাষ্ট্র ইসরায়েল ১৯৬৭ সালে ‘মসজিদুল আকসা’ জবরদখল করে নেয়। এরপর থেকে সেখানকার মুসলিম জনগণ মুক্তি ও স্বাধীনতার জন্য তাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু জায়ানবাদী ইসরায়েল একের পর এক মুসলিম–অধ্যুষিত এলাকা জবরদখল করে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রাখে।
বর্তমানে এ মসজিদে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত। ইসরাইলের মুসলিম বাসিন্দা এবং পূর্ব জেরুজালেমে বসবাসরত ফিলিস্তিনিরা মসজিদুল আকসায় প্রবেশ ও নামাজ আদায় করতে পারে। আবার অনেক সময় তাদের বাঁধাও দেওয়া হয়। এই বিধিনিষেধের মাত্রা সময়ে সময়ে পরিবর্তন হয়। কখনও শুধু জুমার নামাজের সময় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। গাজার অধিবাসীদের জন্য বিধিনিষেধ অনেক বেশি কঠোর। আমরা মহান আল্লাহ তা’আলার দরবারে কায়মনোবাক্যে ফরিয়াদ জানাই, তিনি যেন আবারো আমাদেরকে কুদস বিজয়ের তাওফিক দেন এবং মসজিদুল আকসা পুনরুদ্ধার করার হিম্মত নসিব করেন।
‘ম্যাসেজ’ বই থেকে
পৃষ্ঠা: ২৪৪-২৪৬
দ্বিতীয় সংস্করণ

বাংলাদেশসরকারকেবলছি

বাংলাদেশ_সরকারকে_বলছি
রাতের অন্ধকারে উলামায়ে কেরামদের হয়রানি না করে এইভাবে গ্রেপ্তার না করে।অফিস থেকে ফোন দিবেন,যে আপনাকে গ্রেফতার করব,অফিসে চলে আসেন,ইনশাআল্লাহ আমাদের উলামায়ে কেরাম সন্তুষ্টি চিত্তে আপনাদের অফিসে হাজির হবে।কারন তারা আপনাদের মত চোর বাটপার না যে ভয় পাবে।
❤. মাওলানা হাসান জামিল❤